মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান

  • প্রকাশিত: 30 September 2026, 10:57 AM | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি :প্রকল্প বাস্তবায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, নথিপত্র তলব; প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন
বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দেড়টা পর্যন্ত দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন ওয়াশ ব্লক নির্মাণ প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কাজের আদেশ প্রদানে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে দুদক কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া, কাজের আদেশ, দরপত্র মূল্যায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেন। এ সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া দুদক কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন ফাইল ও নথিপত্র উপস্থাপন করেন।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো কোনো টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা (Lowest Tenderer) থাকা সত্ত্বেও তাকে কাজের আদেশ না দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একটি টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী দরদাতাদের প্রস্তাব যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই পুনঃটেন্ডার (Re-tender) করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযানের সময় এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হলেও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।
দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৯ কোটি ৯ লক্ষাধিক টাকার ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজের আদেশ প্রদান এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনটি ট্যাংকি নির্মানে অনিয়মে নিন্মমানের কাজের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজের আদেশ না দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে টেন্ডারে দরপত্র জমা দেওয়ার পর তা যথাযথভাবে বিবেচনা না করে পুনঃটেন্ডার করা হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে।’
সরোয়ার হোসেন আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু নথি পাওয়া গেলেও আরও কিছু রেকর্ডপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি ওয়াশ ব্লক নির্মাণের প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন ও নমুনাভিত্তিক যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং এলোমেলোভাবে (র‌্যান্ডমলি) কিছু কাজ যাচাই করব। প্রয়োজনীয় সব রেকর্ডপত্র সংগ্রহের পর সেগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুদকের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানের মাধ্যমে সংগৃহীত নথিপত্র ও সরেজমিন পরিদর্শনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেন, সহকারী পরিদর্শক আবু সাদেক, উপসহকারী পরিচালক মামুন সাজিবুল ইসলাম মাসুদ এস আইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়ার বক্তব্য বলেন ভুল বুঝাবুঝির কারনে অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ট্রেন্ডার কাজগজপত্র দিয়েছি ।এবং চাহিত তথ্যর লিখিত জবাব দিতে বলে গেছেন।#

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...