মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা

  • প্রকাশিত: 9 October 2026, 5:41 AM | আপডেট: ৪ দিন আগে

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা হলেন—-
সরকারি জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নতুন পরিষদে চেয়ারম্যানসহ মোট ১৫ জন রয়েছেন।
চেয়ারম্যান:
১. দীপন তালুকদার
সদস্যবৃন্দ:
২. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ
৩. শাশ্বত চাকমা
৪. বিলটু চাকমা
৫. মো. তোফাজ্জল হোসেন
৬. মোহাম্মদ ফারুক
৭. নন্দিতা দাশ
৮. অনিল বরণ চাকমা
৯. পাইচিং মং মার্মা
১০. উথোয়াইমং মারমা
১১. প্রেমা তালুকদার
১২. তিমথী খিয়াং
১৩. সুবিমল চাকমা
১৪. চন্দ্রা চাকমা
১৫. সুপর্ণ দেব বর্মন

নতুন পরিষদ নিয়ে দিপুর প্রত্যাশা—–
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দীপন তালুকদার দিপু বলেন, রাঙ্গামাটির প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে চান। জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং জেলা পরিষদকে একটি মডেল জেলা পরিষদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে রাঙ্গামাটিতে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের কল্যাণের বিষয়টি। তিনি বলেছেন, জনগণের ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে সঙ্গে নিয়ে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে নতুন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য।

সবার সার্বিক সহযোগিতা চান চেয়ারম্যান—–
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর দীপন তালুকদার দিপু শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নয়, রাঙ্গামাটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন।
তিনি মনে করেন, একটি জেলা পরিষদ এককভাবে চেয়ারম্যানের পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নবগঠিত জেলা পরিষদকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তাঁর এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে—রাঙ্গামাটির সামগ্রিক উন্নয়ন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

জেলা পরিষদে কী করতে চান দিপু?
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দীপন তালুকদার তাঁর অগ্রাধিকারের কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন।
তিনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে বৈষম্যহীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পর্যটনের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাঙ্গামাটির বাস্তবতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, পর্যটন, কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক অর্থনীতি, ভূমি ও সামাজিক সমস্যা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা—এসব বিষয় জেলা পরিষদের কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।
তাই নতুন চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে নয়, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রভাব দিয়েও মূল্যায়িত হবে।

ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সংগ্রামের জায়গাটি—–
দীপন তালুকদার দিপু নিজে ২০২৬ সালে জেলা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ, প্রতিকূলতা, মামলা ও হামলার কথা উল্লেখ করেছেন। একটি প্রতিবেদনে তাঁর ১৭ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতীক্ষা, মামলা ও হামলার কথা তাঁর বক্তব্য বলা হয়েছে।
দিপুর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘ সময় ধরে জেলা বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা সভাপতির পদে আসীন হওয়া।

পরিবার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার——
দীপন তালুকদার দিপুর পরিবারও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত একটি আলোচিত পরিবার।
২০২৬ সালের আগস্টে তাঁর নিজের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর বড় ভাই রাজনীতি করেন না এবং এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ফলে ২০২৬ সালে দিপু চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি রাঙ্গামাটির জেলা পরিষদের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য পারিবারিক ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে।
তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থানকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আড়ালে পড়ে যায়। জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং ২০২২ সালের কাউন্সিল নির্বাচনে সরাসরি ভোটে সভাপতি হওয়া তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পৃথক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...