বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

পার্বত্য চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে রাঙামাটিতে সমাবেশ-মানববন্ধন

  • প্রকাশিত: 27 September 2026, 2:01 PM | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:- পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে বর্তমান সরকারের এক তরফাভাবে চুক্তি লংঘন  আইন ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ডের প্রতিবাদে সমাবেশ ,মানব বন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের উদ্যেগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।                                                             
সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গৈরিকা চাকমা, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি চাকমা এবং লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী শিশির চাকমাসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন করে সরকার বিভিন্ন একতরফা ও জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে প্রতিনিধি এনে বিশেষ দায়িত্ব প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী শিশির  চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটি চুক্তি স্বাক্ষরকারী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে। এসব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা প্রয়োজন।’
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় সরকারকে নিতে হবে।
তারা অবিলম্বে একতরফা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

পার্বত্য জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের সকলেই জানি অনেক ঘটনাবহুল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৬ইং সালের ১২ ফেব্রুয়ারী  বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সকল পার্বত্যবাসী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে পূর্ন সমর্থন দিয়ে আসছে। রাস্তা ব্লক করাসহ নানা পন্থায় ও উপায়ে প্রতিবাদ এবং দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানানো হয়েছিল।

এভাবে বেশ কয়েকবার এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে স্ব-পদে পুনর্বহাল এবং জনাব মীর হেলা উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে অন্যত্র পদায়ন করার দাবী জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করে প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল। এইসব সভা-সমাবেশে এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল।

২। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী  হেলাল উদ্দিনকে তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃংখলা, দুর্নীতি, ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যানমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারী কার্যাবলী তদারিক ও সমন্বয়ের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করা।

৩। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের বৈধ ও উপযুক্ত প্রতিনিধির সাথে আলোচনা করে গঠিত তিনটি কমিটি: ১। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, ২। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি ও ৩। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি সমূহের কার্যক্রম বাতিলকরণসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তিনটি কমিটি: ১. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কমিটি ২. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি; ও ৩. ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স; পূনর্গঠন করা।

৪। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ ঘোষনা করে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।#

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...