১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বিপুল সংখ্যক হিন্দু যেমন পূর্ববঙ্গ থেকে ভারতে গিয়েছিল, তেমনি বিপুল সংখ্যক মুসলমান ভারত ছেড়ে পূর্ববাংলায় এসেছিলেন।
ভারতের শিল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্রে পূর্ববঙ্গ থেকে যাওয়া মানুষের গল্প আছে। প্রায়ই সবারই গল্প, পূর্ববঙ্গে তাদের প্রচুর জমি, পুকুর, গাছ, গরু ফেলে ভারতে শরনার্থী হয়েছেন। কিন্তু ভারত থেকে আসা মুসলমানদের গল্প কোথাও নেই। তাদের ফেলে আসা জমি, পুকুর, গাছ, গরুর গল্প নেই।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসু আদি বাড়ি যে বিক্রমপুরে তা গোটা বাংলাদেশ জানে। কিন্তু বাংলাদেশের একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার যে সাতচল্লিশে খালি হাতে সপরিবারে পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন এটা কে জানে? কিন্তু শুভেন্দুর মায়ের দাদার বাড়ি যে বরিশালে ছিল এটা সবাই জানে।
অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের আদিবাড়ি পাবনা, তা ঢাকার সবাই জানা। কিন্তু আমাদের কিংবদন্তী অভিনেতা নায়ক রাজ যে কলকাতা ছেড়ে পঁয়ষট্টির দাঙ্গায় ঢাকায় এসেছিলেন, এই গল্পটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। সুচিত্রার পৈত্রিক ভিটা নিয়ে বহু সংবাদ এই দেশে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু রাজ্জাকের ফেলে আসা পৈত্রিক ভিটা নিয়ে খবর দেখিনি কখনও। কিংবা মুর্শিদাবাদের ফেলে আসা আবুল হায়াতের শৈশবের খবর দেখেন কখনও?
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল হকের খ্যাতিমান মানুষরা যে পূর্ববঙ্গে ‘রিফুজি’ হয়েছিলেন তা নিয়ে গল্প নেই।
পূর্ববঙ্গে ফেলা যাওয়া জমি, বাড়ি, শৈশব নিয়ে গল্প থাকা এবং ভারতে ফেলে আসা জমি, জীবন, ঘর, সংসার নিয়ে গল্প না থাকাটাই বয়ান।
** নিজের বয়ান তৈরি করতে না পারাটা ব্যর্থতা। যা বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেয়। #moin