ভারতের উত্তর প্রদেশের উগ্র সাম্প্রদায়িক যোগী আদিত্য নাথ সরকার বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মুহাম্মদ আলী যওহর বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।কে এই মুহাম্মদ আলী যওহর? যার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় গুড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দিতে তাঁরই জন্ম রাজ্যের রাজ্য সরকারের একবারও হাত কাঁপল না!
১৯৩০ সালে লণ্ডনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে মাওলানা মুহাম্মদ আলী যওহর উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, “হয় আমাকে স্বাধীনতা দিন, নতুবা আমার কবরের জন্য দুই গজ জায়গা দিন। আমি আর ঐ গোলামীর দেশে ফিরে যেতে চাই না।” সেই কথা যেন অলক্ষ্যে গৃহিত হয় গিয়েছিল। পরবর্তী বৎসর ১৯৩১ ইং জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখ তিনি ইন্তেকাল করেন এবং বায়তুল-মাক্বদিসে স্থানান্তরিত করে ২৪ জানুয়ারি তাঁকে দাফন করা হয়। কী প্রবল দেশপ্রেম এই যওহরের !!!
আর আজ তাঁর নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে গুড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখে স্তম্ভিত হতে হয়।আসুন মুহাম্মদ আলী যওহর সম্পর্কে উইকিপিডিয়া কি বলে দেখে নিই।
মাওলানা মুহাম্মদ আলি যওহর ছিলেন অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা, সাংবাদিক, কবি ও শিক্ষাবিদ।তিনি ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন এবং খিলাফত আন্দোলনের প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই মহান ব্যক্তিত্ব ১৯২৩ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর জীবন ও কর্মের প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রাথমিক জীবন ও সাংবাদিকতা :
১৮৭৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি অক্সফোর্ডের লিংকন কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
১৯১১ সালে তিনি ইংরেজি ভাষায় “কমরেড” (Comrade) এবং ১৯১৩ সালে উর্দু ভাষায় “হামদর্দ” (Hamdard) পত্রিকা চালু করেন।
তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
স্বাধীনতা আন্দোলন ও খিলাফত আন্দোলন :
তিনি ১৯১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর সাথে মিলে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন বেগবান করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খিলাফত (Ottoman Caliphate) রক্ষায় তিনি তার ভাই শওকত আলীকে নিয়ে “খিলাফত আন্দোলন” গড়ে তোলেন।
আন্দোলন পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে একাধিকবার কারাদণ্ড দেয়।
১৯২০ সালে তিনি আলীগড়ে জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।
শেষ জীবন :
১৯৩০ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে তিনি অসুস্থ শরীর নিয়েও অংশগ্রহণ করেন।
সেখানে তিনি ঐতিহাসিক উক্তি করেন, “আমাকে স্বাধীনতা দিন, অথবা আমার কবরের জন্য দুই গজ জায়গা দিন।”
৪ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে লন্ডনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসার প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
See less