মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

ইতিহাসে যা “The Ghost Train” বা লাশের ট্রেন নামে পরিচিত।

  • প্রকাশিত: 16 September 2026, 4:13 AM | আপডেট: ৪ সপ্তাহ আগে

লাহোর স্টেশনে একের পর এক ট্রেন আসছে ভারত থেকে। বগির দরজায় র ‘ক্তে ‘র ছোপ ছোপ দাগ। দরজা খোলা হলো, কিন্তু এ কী! পুরো বগিতে কোনো মানুষ নেই, শুধু লা ‘শে ‘র ওপর লা “শে ‘র স্তূপ। না, কোনো হরর মুভির দৃশ্য নয় এটি। ইতিহাসে যা “The Ghost Train” বা লাশের ট্রেন নামে পরিচিত।

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাস। পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে। ভারত থেকে মুসলিম রিফিউজিদের নিয়ে ছেড়ে আসা ট্রেন যখন লাহোর বা অমৃতসর স্টেশনে পৌঁছাত, তখন অনেক সময়ই দেখা যেত ট্রেনের সব যাত্রীই মৃ ‘ত এবং ভেতরে কেবল লা ‘শে ‘র স্তূপ। সীমান্ত পারাপারের প্রধান মাধ্যম ছিল ট্রেন। কিন্তু অচিরেই শরণার্থী বোঝাই এই ট্রেনগুলো পরিণত হয় চলন্ত কবরস্থানে।

ভারত থেকে লাহোরগামী শরণার্থী ট্রেনে হা ‘ম ‘লা চালিয়ে মুসলিম যাত্রীদের হ ‘ত্যা করা হতো। লাশভর্তি ট্রেনগুলো সীমান্তবর্তী লাহোর বা শিয়ালকোট স্টেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। ট্রেনের বগির গায়ে র ‘ক্ত, চক অথবা কয়লা দিয়ে লিখে দেওয়া হতো ভয়াবহ উসকানিমূলক বার্তা: “A Gift to Jinnah” (জিন্নাহর জন্য উপহার)।

শত শত কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ভারতীয় মুসলিমরা পাকিস্তানে এসেছিলেন। পথে পথে উগ্র হিন্দু ও শিখদের আক্রমণে হাজার হাজার মুসলিম মা ‘রা যায়। ধ ‘র্ষ ‘ণের শিকার হয় অসংখ্য মুসলিম মা-বোনেরা। শুধু ধ ‘র্ষ ‘ণ থেকে বাঁচতে বহু নারী রাস্তার পাশের পানির কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহ ‘ত্যা করেন।

এমনকি মুসলিমদের কাফেলা যে পথ দিয়ে পাকিস্তানে যাবে, সেসব পথের সব কূপে বিষ পর্যন্ত মিশিয়ে রাখা হয়েছিল, যেন পিপাসিত মুসলিমরা কূপের পানি পান করে মা ‘রা যায়। কতটা জ ‘ঘন্য ও বর্ব ‘র আচরণের এসব ইতিহাস আমাদের থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে!

ব্যক্তিগত জীবনে জিন্নাহ প্র্যাকটিসিং মুসলিম ছিলেন না, তাঁর নানা কাজের সমালোচনার অনেক সুযোগ আছে। কিন্তু আজ যে আমরা প্রকাশ্যে গরুর গোশত খেতে পারি, মাথায় টুপি পরতে পারি, আজান দিতে পারি, ঈদের দিন এলাকার সবাই এক কাতারে শামিল হতে পারি—এসব কিছুর স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন জিন্নাহ।

১৯৪৭ আমাদের মুক্তি দিয়েছে উগ্রবাদী ভারত থেকে, যেখানে গরুর মাংস বহনের মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে মানুষ খু ‘ন হয়, অথচ কোনো বিচার হয় না।

১৯৪৭ আমাদের অঘোষিত অস্তিত্ব! যে অস্তিত্বকে এতদিন নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, আগামীর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানিয়ে যাওয়া হোক আমাদের অঙ্গীকার। উপমহাদেশে মুসলিমদের রাজনৈতিক মুক্তির দূত, মহান নেতা জিন্নাহ সাহেবের কারণে আজ আমরা কট্টর ভারতীয়দের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি।

গরু খাওয়ার অপরাধে ভারতে যখন মানুষ ম ‘রে, জিন্নাহ তোমায় মনে পড়ে। কলকাতায় মুসলিম হওয়ার অপরাধে যখন মানুষ ম ‘রে, জিন্নাহ তোমায় মনে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় যখন মানুষ ম ‘রে, জিন্নাহ তোমায় মনে পড়ে। মুসলিমদের জোর করে “জয় শ্রীরাম” বলতে বাধ্য করা হয় যখন, জিন্নাহ তোমায় মনে পড়ে। তখন তোমায় পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি, হে মহান নেতা, কওমের মুহাফিজ, কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

©️কালেক্টেড

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...