বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।সংগঠন দুটির দাবি, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আবারও এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাজেকে পর্যাটক প্রবেশের নিষেধজ্ঞা অন্য দিকে অবরোধের ফলে হোটেল ব্যবসায়ীদের ১০কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছে হোটেল ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি। এর আগে ৮ অক্টোবর উজো বাজারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠন দুটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন ২টির নেতারা অভিযোগ করেন, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, এসব সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরীহ বাসিন্দাদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তার আগে ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক এবং খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরে ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়।
এদিকে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমার একদিন আগেই সোমবার সাজেক ছেড়ে যান সেখানে অবস্থানরত পর্যটকেরা। নতুন করে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ায় সাজেকের সড়ক যোগাযোগ আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য পাহাড়ে আঞ্চলিক দলের আধিপত্য বিস্তার ভ্রাতৃত্বঘাতি সংঘাত অপহরণ চাদাবার্জির কারণে পর্যাটন ব্যবসার ধস নেমেছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।#