রাঙামাটি প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ছে । এ কারণে হ্রদের পানি ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্ণফুলী জলবিদু্ৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছর অধিক সময়ে কর্ণফুলী হ্রদে ডেজিং করা হয়নি । ফলে হ্রদে পলি মাটি জমে নদীর নাব্যতা কমে গিয়ে পানি ধারণ ক্ষমতা অনেকাংশে কমে গেছে।
কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৪ দশমিক ৯২ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। বাঁধে পানির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল ওপরে। হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসায় উজান ও ভাটি এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বাঁধের স্পিলওয়ে গেট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ রোববার প্রাথমিকভাবে ১৬টি গেটে ৬ ইঞ্চি করে পানি ছেড়ে দেওয়া হবে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হবে বলে জানিয়েছেন জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।
এদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
পানি ছাড়ার সময় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিন্মঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা, নৌযান চালক, জেলে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।